সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের সঙ্গে গঙ্গা ব্যারেজ নিয়ে আলোচনা চলছে, শিগগির এ ব্যাপারে একটা সমঝোতা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানি সম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেছেন, গঙ্গা ব্যারেজের সম্ভাব্য স্থানের ৮২ কিলোমিটারজুড়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দুই দিকেই পানি। অন্যদিকে ১৩ কিলোমিটার জায়গার অর্ধেক বাংলাদেশের আর অর্ধেক ভারতের। সে জন্যই জমি কিনতে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে ‘নদী বাঁচাও, দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক পানি দিবস এবং নদী বিষয়ক শতাধিক তথ্যচিত্র নির্মাণের সাফল্য উপলক্ষে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে প্রিমিয়ার নিউজ সিন্ডিকেট লি.-পিএনএস।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করছেন গঙ্গা ব্যারেজ নিয়ে কেন ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে? ভারত তো ফারাক্কা ব্যারেজ নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি। যারা এই প্রশ্ন করছেন আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলব, গঙ্গা ব্যারেজ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে জায়গা অধিগ্রহণের জন্য। ১৩ কিলোমিটার জায়গার অর্ধেক বাংলাদেশের আর অর্ধেক ভারতের, সেই জন্যই জমি কিনতে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। অন্যদিকে ব্যারেজের এক চতুর্থাংশ পানি জমা হবে ভারতের জায়গায়। এ নিয়ে সমোঝতার জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, শিগগির একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান আসবে বলে আমরা আশা করছি।’ তিনি জানান, এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় চার বিলিয়ন ডলার।

গঙ্গা ব্যারেজ ছাড়া বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলকে বাঁচানো অসম্ভব মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, পানির নাব্য ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাবে। আগে আমরা ভারতের পানি পেতাম ৫৫ হাজার কিউসেক। কিন্তু এখন ২০ হাজার কিউসেকও পাওয়া যায়। ওই অঞ্চলকে বাঁচাতে হলে আরও ২০ হাজার কিউসেক পানি গঙ্গা, মাথাভাঙা, চন্দনা নদীতে ধরে রাখতে হবে।’

যমুনার পানি এনেও বুড়িগঙ্গা নদীকে রক্ষা করা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত বর্জ্য নদী ফেলা বন্ধ না হবে মন্তব্য করে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দেশের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বুড়িগঙ্গাকে দখলমুক্ত এবং বর্জ্য দূষণ বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বুড়িগঙ্গাকে বাঁচানো যাবে না।’

মতবিনিময় সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, ‘নদী দখল হচ্ছে, নদীর নাব্য হারাচ্ছে। এর জন্য মানুষ দায়ী, মানুষের অসচেতনতা দায়ী। অতীতের কোনো সরকার নদী সংরক্ষণের জন্য কাজ করেনি। আমরাই বঙ্গবন্ধুর কেনা সাতটি ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং শুরু করি। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালে আমরা ১৪টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছি। বেসরকাীর খাতেও ৭০টি ড্রেজার সংগ্রহ করে নদী খননের বিপ্লব ঘটিয়েছি। এছাড়াও আরও ১০টি ড্রেজারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।’

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আশোক মাধব রায় প্রমুখ।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম