সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনার দায়ে হরকাতুল জিহাত নেতা মুফতি হান্নানসহ তিনজনের মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা রিভিউ খারিজের রায় প্রকাশিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এ রায় প্রকাশিত হয়।

এ রায় প্রকাশ হওয়ার পর মুফতি হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসির রায় কার্যকরে শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন বাকি থাকলো। রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা না চাইলে কিংবা রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করে দিলে তাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরে আর কোন বাধা থাকবে না।

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অপর দুই জঙ্গি হলেন-শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল ওরফে বিপুল, দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপন।

হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) সাব্বির ফয়েজ দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, রায়ের কপি কারা মহপরিদর্শক, পুলিশ মহাপরিদর্শক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিচারিক আদালতে পাঠানো হবে।

রায়ের এ কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর মুফতি হান্নানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এর আগেই জারি করা মৃত্যুপরোয়ানা ফের সচল হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা; রিভিউয়ের আবেদন করায় তা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল।

এর আগে রিভিউ খারিজ হওয়ার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘এখন রায়ের বিষয়টি আসামিদের জানানো হবে। তাঁরা চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। যদি না করেন, তাহলে কারা কর্তৃপক্ষে যে কোনো মুহূর্তে মৃতুদণ্ড কার্যকর করতে পারে।’

মুফতি হান্নানসহ তিন আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা জানতে চাইলে আসামিপক্ষের আইনজীবী নিখিল কুমার সাহা জানান, ‘এটা তাদের সিদ্ধান্ত। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিলে বহাল থাকা মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করেন মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গি। সেই আবেদনটি গত ১৯ মার্চ খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এ হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন।

ঘটনার দিন অজ্ঞাতপরিচয় আসামির বিরুদ্ধে মামলা করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র প্রদান করা হলে ২০০৭ সালের ৩১ জুলাই মুফতি হান্নানসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর সম্পুরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালের নাম অন্তর্ভুক্ত করে অভিযোগ গঠন করা হয়।

২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। অন্যদিকে মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

নিয়ম অনুসারে মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন করতে প্রয়োজনীয় নথি হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা জেল আপিলও করেন। প্রায় সাত বছর পর ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়ে শেষ হয় ৩ ফেব্রুয়ারি। পরে বিচারিক আদালতের দণ্ড বহাল রেখে ১১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একই বছর ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

পরে একই বছর ১৩ জুলাই হাইকোর্টে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেন মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল। তাদের সঙ্গে আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি দেলোয়ার হোসেন রিপনের পক্ষে আইনজীবী নিযুক্ত করে একইসঙ্গে তিনজনের আপিল শুনেন আপিল বিভাগ।

গত বছর ১৫ নভেম্বর এই মামলায় হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা মুফতি হান্নানসহ তিন আসামির করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন আপিল বিভাগ। সেই আপিল শুনানি গত ৩০ নভেম্বর শুরু হয়, যা শেষ হয় ৬ ডিসেম্বর। শুনানি শেষে ৭ ডিসেম্বর তিনজনের মৃত্যুদণ্ডই বহাল রেখে রায় দেন আপিল বিভাগ।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম