সংবাদ শিরোনাম

 

গাজীপুর প্রতিনিধি : ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসির আদেশ পাওয়া জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন। মৃত্যু পরোয়ানা শোনার ঘণ্টাখানেক পর গাজীপুরের কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষকে তারা এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

কাশিমপুর কারাগারের জেল সুপার মিজানুর রহমানও ঢাকাটাইমসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বুধবার সকাল ১০টায় মৃত্যুপরোয়ানা পড়িয়ে শোনান জেলার বিকাশ রায়হান। এ সময় দুই জঙ্গি নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত না জানিয়ে কিছুটা সময় চান। পরে তারা আবেদন করার সিদ্ধান্ত জানান।

আইন অনুযায়ী আপিল বিভাগ কারও মৃত্যুদণ্ডের রায় চূড়ান্ত করার পরও রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে পারেন আসামিরা। রাষ্ট্রপতি সে আবেদন নাচক করলে দণ্ড কার্যকর হবে।

গত কয়েক বছরে রাষ্ট্রপতি মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বেশ কয়েকজন আসামির দণ্ড মওকুফ বা কমিয়েছেন। এ নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে দেশজুড়ে। মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তাদের দণ্ড মওকুফে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করেছিলেন বলে জানিয়েছে সরকার। সে আবেদন রাষ্ট্রপতি নাচক করলে দণ্ড কার্যকর হয়।

রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হলে অপরাধ স্বীকার করে চিঠি দিতে হয় বলে প্রচার আছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করেননি গাজীপুরের জেল সুপার মিজানুর রহমান। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘দুই জঙ্গি তাদের চিঠিতে কী লিখবেন, সেটা তো আমি বলতে পারবো না।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন। ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত ৫ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় আদালত।

এরপর রায় অনুমোদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা জেল আপিলও করেন।

২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত এই দণ্ড বহাল রাখে। পরে ১৪ জুলাই আপিল করেন দুই আসামি হান্নান ও বিপুল। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর এই আবেদন খারিজ হয়ে গেছে ১৭ জানুয়ারি রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করা হয়। ১৯ মার্চ রোববার রিভিউ খারিজ হয়ে যায়। পরে রিভিউ খারিজের রায় মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম