সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জঙ্গিবাদের কারণে অনেক রাষ্ট্র ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সকল রাজনৈতিক দল ও মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে জঙ্গিবাদ মোকাবেলা ও প্রতিহত করা উচিত। অথচ দেখছি জঙ্গিবাদ নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না। উপরন্তু কোনো ঘটনা ঘটলেই বিএনপির ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অর্থ্যাৎ সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করে বিএনপিকে ঘায়েল করার চেষ্টা।

বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে ভাসানী মিলনায়তনে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগর বিএনপি এ প্রস্তুতি সভার আয়োজন করে।

ফখরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিবাদ নিয়ে রহস্যময় খেলা চলছে। আসল রহস্য হচ্ছে এখানে ঘরোয়া জঙ্গিবাদের কথা বলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা, কোনো প্রকার সুযোগ না দেয়া। আমরা ভীত। জানতে চাই, সরকার কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে? জানতে চাই, সরকারের আসল লক্ষটা কী? যদি জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে চান তাহলে অবশ্যই সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সত্যিকার অর্থে এর রহস্য উদ্ঘাটন করুণ। তদন্ত করেন, বের হয়ে আসুক কারা এই জঙ্গিবাদে মদদ দিচ্ছে। এর জবাব দিতে হবে।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, কঠিন সময়ে ঐক্যের বিকল্প নাই। যারা বাংলাদেশের বিপন্ন করতে চায় তাদেরকে মোকাবেলা করতে হবে। এখন চুপ করে বসে থাকার সময় নেই। মুখ বুজে চুপ করে থাকলে দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারবো না। তাই ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে শান্তিপূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে র‌্যালি করে নিজেদের প্রকাশ করা এবং সংগঠিত করাটা বিএনপির জন্য একটি সুযোগ। ইতোমধ্যে আমরা অনেক কথা বার্তা শুনেছি যে, বিএনপি শুধুমাত্র ঘরের মধ্যে থেকেই কথা বলে, বাইরে কথা বলে না। আমরা এবার বাইরে কথা বলতে নয় বরং দেখাতে চাই বিএনপি বাইরেও আগের মতোই আছে। তবে এটা পরোপুরি নির্ভর করবে ঢাকা নগর বিএনপির ওপর; তারা এই র‌্যালিকে সফল করতে কিভাবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, আসলে আমরা এখন স্বাধীন আছি কি না সেটা একটা বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্যক্তি স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা নেই। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হুমকির মুখে। ভূ বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে কেন্দ্র করে যে সমস্ত বিষয়গুলো আলোচনা হচ্ছে সেগুলো নিঃসন্দেহে জাতিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আমরা জানি না তিনি কি চুক্তিতে সই করবেন। পত্র পত্রিকায় এ ব্যাপারে যা প্রকাশিত হচ্ছে এ ব্যাপারে আমরা যারা দেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি তারা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন করলে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে। এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকার দিতে হবে অন্যথায় দেশে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তাই বিভক্তি অত্যাচার নির্যাতন বাদ দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে যেতে আসুন, আলোচনা করুন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারতে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তাই তাকে (প্রধানমন্ত্রী) সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, ভারত সফরে ভারত কেন্দ্রীক বাংলাদেশের যে সমস্ত সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ বাংলাদেশের সেই সকল সমস্যার ব্যাপারে সরকার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অন্যদিকে মন্ত্রী মুখে শুনতে পাই তিস্তা চুক্তি হবে কিনা সে ব্যাপারে তিনিও নিশ্চিত নন। তাহলে কোন চুক্তি হবে?
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, সরকারকে আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি এদের মানুষ মেনে নেবে না। কারণ দীর্ঘকাল ধরে এদেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি সেই দল যারা কখনও বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে আপোষ করতে পারে না। করবেও না। অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় টিকে রাখতে একটার পর একটা ষড়যন্ত্র চলছে, কি করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালানো যায়। তার জন্য কৌশলে অত্যাচার নির্যাতন, গুম, খুন করে যারা স্বাধীনতার কথা বলে, মানুষের কথা বলে তাদের নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশে জঙ্গি হত্যা জাতিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। প্রায় রাস্তাতেই সন্ধ্যার পর গাড়ি চলে না, মানুষ থাকে না। কখন কি ঘটে যায় সেই আশঙ্কায়।

ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-সাংগঠনিক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম