সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত বলে দাবি করেছে বিএনপি। এজন্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনার বিচার হচ্ছে না এবং এই প্রক্রিয়া বন্ধ হচ্ছে না বলে মনে করছে দলটি।

রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘জাতিকে ধ্বংস করার অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে। দলীয়করণ করে শিক্ষার মান ধ্বংস করা হচ্ছে। ঢাবিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেধাবীদের রেখে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে দলীয় ক্যাডারদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আবার পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দিতে বোর্ড থেকে নির্দেশনা দিয়ে দেওয়া হয় শিক্ষকদের।’

‘প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ধ্বংস করার সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ভোটারবিহীন সরকার। বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এখন মরণ ব্যাধির নাম প্রশ্নপত্রফাঁস। এর পেছনে সরকারি দলের রাঘব বোয়ালেরা জড়িত থাকায় কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁস বন্ধ হচ্ছে না।’

প্রশ্নফাঁসের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রসারণের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, ‘বিগত ১০ বছরে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন, এসএসসি, এইচএসসি, জেএসসি, পিইসি, এমনকি নার্সিং পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে। কোনো কোনো পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হলেও শিক্ষামন্ত্রী নির্লজ্জের মতো তা অস্বীকার করে পরে জনমতের চাপে সেই পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।’

‘প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির মূল হোতারা ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ায় আজ পর্যন্ত এসব ঘটনার বিচার হয়নি। বিগত ১০টি বছর ধরে ধারাবহিকভাবে সকল ধরনের প্রশ্নফাঁসে যে ক্ষমতাসীনরা জড়িত, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যলায়েল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাদের জড়িত থাকার বিষয়টি।’

তিনি বলেন, ‘দেশজুড়ে সকল প্রশ্নপত্রফাঁস ও জালিয়াতির মূল হোতা আওয়ামী লীগ ও তার দলের লোকেরা। এরা দেশকে পরনির্ভরশীল করতেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘মানুষ উন্নয়নের জোয়ারে ঢাকা শহরে হাবুডুবু খাচ্ছেন। ঢাকা তলিয়ে গিয়ে সেখানে এখন ফায়ার সার্ভিসের নৌযান চলছে। অলিগলির সড়কগুলো যেন নালা খালে পরিণত হয়েছে। গত দুদিনে স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েসহ অফিসগামীরা পানিতে ডুবে কীভাবে হাবুডুবু খেয়েছে তা মানুষ বিস্ময়েই তাকিয়ে দেখেছে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের গত ৯ বছরে দেশের ৯০ শতাংশ সড়ক-মহাসড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট ভেঙে চুরে চুরমার হয়ে গেছে। আগামী ১০/১৫ বছর যদি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকে স্থলপথের নিশানা থাকবে কি না সন্দেহ আছে। দেশ তখন ধ্বংসস্তুপে পরিণত হবে।’


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম