সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : তিন সপ্তাহের সরকারি নিষেধাজ্ঞার পর দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলে এখন চলছে সাগরে ইলিশ আহরণের প্রস্তুতি। এ কারণে জেলে পল্লীগুলোতে কর্মচাঞ্চল্যের মধ্যে বৈরী আবহাওয়া নিয়ে আছে উৎকণ্ঠাও। চলতি মাসের ১ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত টানা ২২ দিন সাগরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে রোববার। ২৩ অক্টোবর ভোর থেকে সাগর পাড়ি দেয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঘাটে ঘাটে। তাই নিরাপদে আশ্রয় নেয়া শত শত ট্রলার এসে ভিড়ছে ঘাটে।

 

এ দিকে গত ১৯ অক্টোবর বিকেল থেকে সাগরে চলছে ৩ নম্বর বিপদ সঙ্কেত। এরই মধ্যে ট্রলারগুলোতে রসদ বোঝাইর কাজও চলছে। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে জেলে পাড়ায় চলছে সাগরে ইলিশ আহরণের প্রস্তুতি। এ কারণে কর্মচাঞ্চল্যের মাঝে বৈরী আবহাওয়া নিয়েও রয়েছে তাদের উৎকণ্ঠা।

 

বাঁশখালী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি এয়ার আলী বলেন, আজ রোববার সাগরে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে সে কারণে সাগর পাড়ি দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাঁশখালীতে প্রায় ৫০০ মাছ ধরার ট্রলার সাগরে ইলিশ আহরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ছাড়াও আনোয়ারা উপজেলা ও পশ্চিম পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের হাজারখানেক ট্রলার মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিটি ট্রলারে গড়ে দেড় লাখ টাকার জ্বালানি, ২০-২২ জন মাঝিমাল্লার খাদ্য, তাদের বেতন, ওষুধপত্র, বরফসহ আনুষঙ্গিক তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার ওপরে খরচ পড়ছে বলে তিনি জানান।

 

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখিল ফাঁড়ির মুখ, বাংলাবাজার, কদম রসুল, প্রেমাশিয়া, আনোয়ারা উপজেলার সাপমারা ফাঁড়ি এলাকার ট্রলার মালিক ও জেলেদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এখন দক্ষিণ চট্টগ্রাম উপকূলের সর্বত্রই চলছে সাগরে ইলিশ আহরণের প্রস্তুতি। শেখেরখিল ফাঁড়ি মুখের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল শক্কুর বলেন, শনিবার থেকে শুরু হয়েছে বৈরী আবহাওয়া। তার পরও আল্লাহর ওপর নির্ভর করে আমরা সাগরে ইলিশ আহরণের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে আবহাওয়া ভালো হলে বা আমাদের ভাগ্য ভালো হলে সোমবার ভোর থেকে মাছ ধরা ট্রলারগুলো দল বেঁধে গভীর সাগরের পথে রওনা দেবে বলে তিনি আশা করেন।

 

এদিকে টানা ২২ দিন সাগরে ইলিশ শিকার বন্ধ থাকার সময় শেষে রোববার মধ্যরাত থেকে উপকূলীয় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিভিন্ন নদী ও সাগর মোহনা থেকে পাঁচশতাধিক ট্রলার বরফ ও জ্বালানি মজুদ করে সাগরে রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ার কারণে তাদের যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষে তাদের জালে প্রচুর মাছ ধরা পড়বে এমন আশায় ট্রলারের মালিক ও জেলেরা প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন। দীর্ঘ দিন পর সাগর থেকে ইলিশ বোঝাই ট্রলার ফিরবে এ আশায় মহীপুর, আলীপুর ও বাবলাতলার ব্যবসায়ীরা মৎস্য আড়তগুলো সাজিয়ে গুছিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

 

উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি গ্রামের জেলে ফেরদাউস বলেন, ‘সাগরে যে কতবার জাল পাতছি, কিন্তু মাছ পাইনি। হগোল সাগরে মাছ ধরা বন্ধ ছিল। মনডা কইতাছে এবার প্রচুর মাছ ধরতে পারমু।’ বাবলাতলা ঢোস গ্রামের লতিফ ও নেছার মাঝি বলেন, ‘হাড়াডা সিজনে লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনছি। গত কয়ডা দিন সাগরে মাছ ধরতে না পেরে পোলামাইয়া লইয়া খাওয়া না খাইয়া দিন কাডাইছি। এহন যদি আল্লায় মুখ তুলে চায়।’

 

এখানকার জেলেরা জানান, রোববার রাত ও সোমবার সকাল থেকে আলীপুর, মহীপুর, ঢোস, গঙ্গামতিচর, কুয়াকাটা, ফাতরা, খাজুরা, আন্ধারমানিক নদী ও রাবনাবাঁধ নদীর মোহনা থেকে শত শত ট্রলার মাছ শিকারে সাগরে ছুটে গেছে। সাগরে যাত্রারত হাজী আক্তার গাজী ট্রলারের মাঝি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, প্রজননকালে সাগরে ইলিশ শিকার বন্ধের জন্য নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ ও পুলিশ যেভাবে মা-ইলিশ শিকারের অপরাধে জেলেদের জাল ও মাছ আটক করে শাস্তি দিয়েছে, ঠিক একইভাবে সাগরে জলদস্যুদের হামলায় আবার তারা সর্বস্ব হারাবে। দীর্ঘ দিন সমুদ্রে ইলিশ প্রজনন মওসুমে মাছ শিকার বন্ধ থাকর পর সাগরে যাত্রারত প্রতিটি ট্রলারের মালিক ও জেলেরা ছিলেন উৎফুল্ল।

 

চলতি মাসের ১ থেকে ২২ তারিখ পর্যন্ত টানা ২২ দিন সাগরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে রোববার। ২৩ অক্টোবর ভোর থেকে সাগর পাড়ি দেয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে পটুয়াখালীর ঘাটে ঘাটে। তাই নিরাপদে আশ্রয় নেয়া শত শত ট্রলার এসে ভিড়ছে ঘাটে। সবার মধ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা। এবার তারা প্রচুর মাছ ধরতে পারবেন বলে আশাবাদী। সেই সাথে মহাজনদের ঋণ থেকে মুক্তি পাবেন বলেও মনে করছেন। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে প্রকৃতির ওপর।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম