সংবাদ শিরোনাম

 

ত্রিশাল প্রতিনিধি : অবশেষে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের কোনা বাখাইল গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান (৭৪) ও তার স্ত্রী লুৎফুন্নাহার (৬৫) প্রায় আড়াই একর জমি ও বসতভিটা ফিরে পেলেন। এ প্রসঙ্গে গত ১০ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ১৩নং পৃষ্টায় ”ময়মনসিংহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সংবাদ সম্মেলন” শিরো নামে এবং অনলাইন দিগন্ত বার্তায় একটি সংবাদ প্রকাশের পর কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
জনাযায়,১৯৭৪ সালে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললে এলাকার ভূমিদস্যু তার বসত ভিটা দখলের পায়তারা শুরু করে। ২০১২ সালে মুখে বিষ ও ফাসিতে ঝুলিয়ে তার একমাত্র ছেলে লুৎফুর রহমান দুখুকে হত্যার অভিযোগ উঠে।যা বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।এর পর মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী লুৎফুন্নাহারসহ দুইকন্যা শরিফা খাতুন এবং নাসরিন সুলতানা পাপড়ী কে উচ্ছেদ করে ভূমিদস্যুরা।

পরর্বতীতে শরীফা খাতুন বাদী হয়ে মতিউর রহমানের ভাই আব্দুল মান্নান চানু মিয়া, স্ত্রী মুর্শিদা তাদের তিন পুত্র মামুন, মাসুদ, সানোয়ার,কন্যা মাহমুদা এবং প্রতিবেশী ভূমিদস্যু বলে পরিচিত আবুল কাশেম ও তালেব আলী সহ সুনির্দিষ্ট আসামীদের চিহ্নিত করে বিভিন্ন দপ্তরে জমি উদ্ধার ও হত্যার বিচারের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন।মুক্তিযোদ্ধা কন্যা শরিফা খাতুন পত্রিকার কপি, জমির কাগজপত্র সহ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় বরাবর একটি আবেদন করলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারকে দায়িত্ব প্রদান করে। জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম শরিফা খাতুনকে ডেকে সর্বাত্বক সহযোগিতার পাশাপাশি ত্রিশাল থানার ওসি জাকিউর রহমানকে নির্দেশ প্রদান করেন।

এর পর ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন ও ত্রিশাল থানার ওসি জাকিউর রহমান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শরিফা খাতুনকে নিয়ে উপজেলার মোক্ষপুর ইউনিয়নের কোনাবাখাইল গ্রামের নিজ বাড়িতে গিয়ে দখলকৃত ভিটে মাটি উদ্ধার করে তাদের হাতে বুঝিয়ে দেন। দীর্ঘদিন পর নিজ ভিটে মাটিতে ফিরে আবেগআপ্লত হয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের পরিবার।সোমবার সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ ৩ বছর পর মানষিক ভারসাম্যহীন মুক্তিযোদ্ধা পরিবার নিজের চুলোয় আগুন জ্বলতে দেখা যায়।

এ ব্যপারে মুক্তিযোদ্ধা কন্যা শরিফা খাতুন বলেন, দীর্ঘ ৩ বছর প্রশাসনের দাড়ে দাড়ে ঘুরলেও আমাদের দিকে কেউ মুখ ফিরে তাকায়নি। আমাদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে কেউ প্রতিবাদ করেননি। ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও মুষ্টিমেয় কতিপয় সাংবাদিক আমাদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন।আমি বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ স্থানীয় মোহাম্মদ সেলিম,ফারুক আহমেদ,ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক বাবুল হোসেন,চ্যানেল আই ও দৈনিক ইত্তেফাক জেলা প্রতিনিধি শেখ মহিউদ্দিন আহাম্মদের প্রতি। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধ করে এদেশ স্বাধীন করেছিল। আজ আমরা স্বাধীন দেশে অত্যাচারিত হয়েছি। এরকম মহানুভব পুলিশ সুপার না থাকলে হয়ত আমরা আমাদের পৈতৃক ভিটায় যেতে পারতামনা।

ত্রিশাল থানার ওসি জাকিউর রহমান বলেন, পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলামের নির্দেশে ত্রিশাল সার্কেল এএসপি আল আমীন স্যারের নির্দেশনায় অসহায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের নিয়ে তাদের দখলকৃত পৈতৃক বাড়িতে উঠিয়ে দেয়। পাশাপাশি যে কোন সহযোগিতার পাশাপাশি এই পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপার নির্দেশ প্রদান করেন।

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন জানান, দীর্ঘদিন জমি অবৈধ দখল থাকার পর ভূমি অফিসের মাধ্যমে নিস্পত্তি করে দেয় এবং আমি নিজে বাড়ি গিয়ে তাদেরকে তাদের সম্পত্তি বুঝিয়ে দেই।

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালে যাদের আতœত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি আজ তারা যদি হয়রানির শিকার হয় তাহলে এ দেশে আমাদের বসবাসের কোন অধিকার থাকেনা। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমি এ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাশে দাড়িয়েছি।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম