সংবাদ শিরোনাম

 

শেরপুর প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : শেরপুর জেলার সিংহভাগ লোক কৃষি ফসল উৎপাদন করে নিজেদের পরিবার পরিজনের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি ফসল দেশের খাদ্য চাহিদায় যোগান দিয়ে থাকে। তাই শেরপুর জেলার অর্থনীতি প্রধানত কৃষিভিত্তিক, যদিও অকৃষি অর্থনৈতিক কার্যক্রম জেলার উন্নয়ন কর্মকান্ডে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। জেলার মোট ৩,৩৫,৪৬০ বসতবাড়ির মধ্যে, ৬০.১২% খামার যা বিভিন্নরকম ফসল উৎপন্ন করে যেমন স্থানীয় ও উচ্চফলনশীল ধান, গম, পাট, সরিষা, আলু, ডাল, বিভিন্নরকম শাকসবজি, তামাক এবং অন্যান্য। কলা, আম, জাম, নারিকেল, সুপারি, খেজুর, কাঁঠাল, তাল, জাম্বুরা, বেল, পেঁপে, বড়–ই, কামরাঙ্গা, আতাফল ইত্যাদি বিভিন্ন ফল চাষ করা হয়।

 

দেশের অন্যান্য অংশের মতো এই জেলায়ও বিভিন্ন জাতের মাছ প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়। নদী, উপনদী ক্যানেল এবং খাঁল থেকে বিভন্ন প্রকার মাছ ধরা হয়। জনপ্রিয় স্বাদুপানির মাছ হচ্ছে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউস, চিতল, বোয়াল, আইড়, গতা, বাইম, খৈলশা, পাঙ্গাস, গজাড়, শোল, পাবদা, কই, শিং, ফালি, বেলে, টেংরা ইত্যাদি। এছাড়াও সদ্য পরিচিত বিদেশী বিভিন্নরকম মাছ হচ্ছে তেলাপিয়া, নাইলোটিকা, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প ইত্যাদি। এছাড়াও ফসল, গৃহপালিত পশু ও মৎস্য পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। অকৃষি কর্মকান্ডেও জেলার অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

এ ক্ষেত্র বহুলাংশে ধান চাতালের উপর নিভরশীল। প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কুড়া, তুষ সহ অনেক ছোট ছোট শিল্পের যোগান ও পরিবহন খাতের গ্রাহক হয়ে সাহায্য করছে এইসব চাতাল। কিন্তু বর্তমানে অটো রাইছ মিল হওয়ায় এসমস্ত চাতাল বন্ধ হয়ে গেছে। জেলার সিংহ ভাগ লোক কৃষি ফসলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বছরের শুরু থেকেই বৈরী আবহাওয়াই অত্র জেলার কৃষকের বোরো ফসল থেকে শুরু করে আমন ফসলসহ সবজির ব্যাপক ক্ষতি সাধন হওয়ায় দরিদ্র কৃষক ও প্রান্তিক চাষীর অপূরণীয় ক্ষয়-ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। উল্লেখ্য অত্র জেলার সিংহভাগ লোক দরিদ্র কৃষক ও প্রান্তিক চাষী। এসমস্ত দরিদ্র কৃষক ও প্রান্তিক চাষীদের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ফসল।

 

আর এই কৃষকদের বছরের শুরু থেকেই উৎপাদিত সকল ফসলি দফায় দফায় বন্যা, শীলা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় সিংহভাগ ফসল ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়। বর্ষা ঋতু শেষ হলেও বর্ষা যেনও শেষ হচ্ছে না। প্রকৃতির এই বৈরী আবহাওয়ায় অত্র জেলা সদরসহ ৫টি উপজেলার উৎপাদিত ফসলের বন্যা ও শীলা বৃষ্টিতে ৬০% থেকে ৬৫% বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়। চলতি আমন মৌসুমের বন্যায় ক্ষতি হয় ৫০% থেকে ৫৫% ভাগ। আর অবশিষ্ঠ আমন ফসল পোকা ও ঝড়ো হাওয়ায় ক্ষতি সাধন করে। এছাড়াও নানা ধরণের সবজির ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান ৮% থেকে ১১% ভাগ। যে কারণে সবজির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কান্দুলী গ্রামের শাহ্জাহান, রামনগর গ্রামের ফজলু মিয়া ও ভালুকা গ্রামের কৃষক আবু বক্কর জানান, এবছরের শুরু থেকেই বোরো আমন ও সবজি ফসলের যে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তা তাড়া কোন ভাবে পুশিয়ে তুলতে পারবে না।

প্রকাশ থাকে যে, বোরো আমনের মৌসুম শেষ সময় এখন শুরু হয়েছে রবি শস্য উৎপাদনের উপযুক্ত সময়। কিন্তু বন্যার পানি না কমায় এবং মাঝে মধ্যেই বৃষ্টির ও প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে কৃষকেরা রবি শস্য চাষের চেস্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে। কারণ হিসাবে জানা যায় বোরো ও আমন ফসলে যে পরিমান ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বর্তমানে ঋণ সহায়তা ছাড়া রবি শস্য উৎপাদন করা সম্ভব নয়। কৃষকরা যদি রবি শস্য সঠিক ভাবে উৎপাদন করতে পারলে তাহলে বিগত ফসলের ক্ষয়-ক্ষতি থেকে কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, এসমস্ত ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে তুলতে হলে কৃষি পুণ:বাসন সুদ বিহীন ঋণ সহায়তা জরুরী ভিত্তিতে দেওয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন। তা নাহলে একদিকে যেমন কৃষকের মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাবে আন্যদিকে আগাম ফসল বোরো ও রবি শস্য উৎপাদনে মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হওয়ায় আশংকা রয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আওয়াল, কৃষি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার মঞ্জুরুল হক ও কৃষি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস এর সাথে যোগাযোগ করলে জানান, এবছর প্রাকৃতিক দূর্যোগ বন্যা, শীলা বৃষ্টি ও পোকার আক্রমনে সব ধরণের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে । এতে কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তবে উপরি উল্লেখিত ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান কৃষি অফিসের হিসাব মতে একটু পার্থক্য রয়েছে। তাই কৃষকদেরকে বাঁচাতে আগাম ফসল বোরো ও রবি শস্য উৎপাদন করতে কৃষকদেরকে কৃষি পুণঃবাসন, কৃষি প্রণদনা ও ঋণ সহায়তা প্রদান করে ক্ষয়-ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এসমস্ত সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম