সংবাদ শিরোনাম

 

মোঃ রাসেল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহে চলতি রোপা আমনের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। কৃষকদের চোখে মুখে হাসির ঝিলিক ফুটে উঠেছে। অনেকেই আগাম জাতের ধান কাটা শুরু করছেন। বন্যা ও অতি বৃষ্টিতে পর পর দুইদফা প্রাকৃতিক দূর্যোগে ময়মনসিংহ অঞ্চলে আউস ধান চাষে কৃষকের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আমন ধান চাষে আশানুরূপ ফলন হওয়ায় কৃষকরা আগের লোকসান পুষিয়ে লাভের মুখ দেখতে পারবেন বলে আশা করছেন।

কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ অঞ্চলের চারটি জেলায় চলতি আমন মৌসুমে রোপা আমন চাষের জন্য ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৯শ ১৬ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তার মধ্যে হলেও আমন ধান রোপন করা ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে। এ অঞ্চলে ৯৭ ভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকলে থাকলে প্রায় দেড় কোটি মেঃ টন (হেক্টর প্রতি ২৬ মেঃ টন) ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর মধ্যে ময়মনসিংহে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯শত ১৫ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক ২ লাখ ৬০ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করেছেন। একইভাবে শেরপুর জেলায় ৮৯ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমি ধানচাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে শতভাগ জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। জামালপুরে ১ লাখ ৫ হাজার ৪ হেক্টর জমি আমন চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ১ লাখ ৭শত ৮০ হেক্টর জমি চাষ করা হয়েছে। নেত্রকোণায় ১ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর আমন চাষের লক্ষ্যেমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে।

অপরদিকে অতি বৃষ্টি ও বন্যার ফলে আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে মারাত্বক ক্ষতি এবং ধানচাষের জমি থেকে সঠিক সময়ে পানি সরে না যাওয়ায় জামালপুর নেত্রকোণায় আমন ধান চাষে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। কৃষি বিভাগের ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলহাজ মোঃ আসাদুল্লাহ জানান, দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও পোকার আক্রমন সত্ত্বেও কৃষক এবং কৃষি বিভাগের জেলা, উপজেলা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সক্ষম হয়েছে।


তিনি আরো বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং বিচ্ছিন্ন কিছু জমিতে পোকার আক্রমণ হলেও রোপা আমন চাষে তেমন প্রভাব পড়েনি। কৃষি বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সপ্তাহিক ছুটি উপক্ষো করে কৃষকদের পাশে দাড়িয়ে প্রযুক্তি নির্ভর নানা সহযোগীতা দিয়ে আসছে। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং পোকা মাকড়ের আক্রমণ হলেও সঠিক সময়ে কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ এবং সঠিক কীটনাশক ব্যবহারের ফলে রোপা আমন ভালো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ধান কাটার মৌসুম আসছে। ইতিমধ্যেই আগাম জাতের এখন ধান কাটা শুরু করেছি। এ সময়ে আবহাওয়া ভাল থাকলে কৃষক সমাজ সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে কৃষকের অতীতের (আগের) ক্ষতি পুষিয়ে তারা লাভের মুখ দেখতে পারবেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম