সংবাদ শিরোনাম

 

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা : প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির পরও কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আওয়ামী লীগের উপজেলা চেয়ারম্যানের সমর্থকদের পক্ষে মিছিল-সমাবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পুলিশের সাথে মিছিলকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। মিছিলকারীরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

গতকাল রোববার রাত ৯টার দিকে একই স্থানে ও একই সময়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৌর সদরের ঈদগাহ মাঠসহ পৌর এলাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব ধরনের মিছিল-সমাবেশ বন্ধ ঘোষণা করে মাইকিং করা হয়।

এটি ছিল তৃতীয়বারের মত পাকুন্দিয়ায় আওয়ামী লীগের জনসভায় ১৪৪ ধারা জারি করা।

পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্মআহবায়ক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম সদর ঈদগাহ মাঠে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৩টায় নির্বাচনী সভার আয়োজন করেন। এজন্য গত এক মাস ধরে কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের প্রতিটি পাড়া, মহল্লা, ওয়ার্ড, ইউনিয়নে উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগ করে নির্বাচনী সভার প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। তিনি সদর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশের জন্য একটি মঞ্চ তৈরির প্রস্তুতিও নেন।

অপরদিকে গত শনিবার সন্ধ্যায় মাইকিং করে একই স্থানে ও একই সময়ে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. হেলাল উদ্দিন ও সদস্য সচিব একরাম হোসেন টিপু একটি কর্মী সমাবেশের ঘোষণা দেন। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রেনুর সমর্থিত লোকজন তাদের মাইক ভাঙচুর করে মাইকিং বন্ধ করে দেয়।

এ ঘটনায় পাকুন্দিয়া কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরমিন বাদী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সমর্থক ১১ জনের নাম উল্লেখ করে গত শনিবার রাতে পাকুন্দিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন- উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক সোহেল রানা, উপজেলা যুবলীগের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবু, পাকুন্দিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম আকন্দ, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক সোহাগ, পৌরছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক রানা সিকদার, উপজেলা যুবলীগের সদস্য সোহেল, পৌর যুবলীগের সদস্য শামীম ও পিয়াস, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য বদরুল ইসলাম বিলাশ ও ব্যবসায়ী পারভেজ।

শনিবার সন্ধ্যা ও রোববার দিনব্যাপী উভয়পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল হয়। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, একই স্থানে ও একই সময়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সমাবেশ ঘোষণা করায় পাকুন্দিয়া পৌরসভার ঈদগাহ মাঠসহ, পাকুন্দিয়া বাজার ও পৌর এলাকার জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনু নির্বাচনী জনসভার নামে বিভিন্ন গ্রামে এবং ইউনিয়নে গিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ও আমাকে নিয়ে মিথ্যাচারসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগকে নিয়ে মিথ্যাচার করে আসছেন। এটা রেনুর ব্যক্তিগত সভা। দলীয় কোনো সভা নয়। এখানে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ যৌথভাবে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছে বলে শুনেছি। উভয়পক্ষের সাথে একটা সমঝোতার চেষ্টা করছি।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে এমপি সোহরাব উদ্দিন তার লোকদের দিয়ে আমার মিটিং বানচাল করার চেষ্টা করছেন। এর আগেও আমার দু’টি মিটিং এমপি সোহরাব উদ্দিন প্রশাসনকে দিয়ে ১৪৪ ধারা জারি করে বানচাল করেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম