সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার অদূরে যেখানে জমির দাম কম, সেখানে স্বল্প আয়তনের আরও ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮৫০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটগুলো যেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা কিনতে পারেন, সে উদ্যোগও নিতে বলেছেন।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি।

সভার সভাপতি প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা আরও বলেন, ঢাকার চারপাশে জমির দাম কম বলে ফ্ল্যাট নির্মাণেও ব্যয় কম হবে। এজন্যই ঢাকার অদূরে আরও ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প নিতে হবে।

একনেক সভায় উপস্থিত গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও সচিব শহীদ উল্লা খন্দকারকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘ঢাকায় অন্যতম সমস্যা আবাসন। নিম্ন আয়ের মানুষদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা আরও প্রকট। আবাসনের সমস্যা নিরসনে ঢাকার অদূরে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আরও ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে ৮৫০ বর্গফুট। প্রতি বর্গফুটের দাম হবে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। যেন সবাই এসব ফ্ল্যাট কিনতে পারেন’।

রাজধানীর উত্তরায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ১৫ হাজার ৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণে একনেক সভায় ‘ঢাকার উত্তরা ১৮নং সেক্টরে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনসাধারণের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ’ প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। ২১৪ দশমিক ৪৪ একর জমিতে চলতি সময় থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

সকল ধরনের আবাসিক সুবিধা সম্বলিত ফ্ল্যাটগুলো নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

প্রতিটি ফ্ল্যাটের গড় আয়তন ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুট। প্রতি বর্গফুটের গড় মূল্য পড়বে ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা।

আট কিস্তিতে গ্রাহককে আট বছরে দাম পরিশোধ করতে হবে। ফ্ল্যাটগুলো কিনতে সবাই আবেদন করতে পারবেন। পরে যাচাই-বাছাই করেই বরাদ্দ দেবে সরকার।

সভায় অনুমোদিত ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ এবং অপসারণ ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৯১ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেরও নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কঠিন বর্জ্য দিয়ে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে অন্যদিকে সারও উৎপাদন করা যাবে।

সভায় উপস্থিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘আমরা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছি। পর্যাপ্ত বর্জ্য পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে’।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের কঠিন বর্জ্য দেওয়ায় সম্মত হন মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।

মেয়র বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুতর পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ মহানগরীতে প্রতিদিন গড়ে প্রতিজনে প্রায় ০ দশমিক ৪৯ কেজি বর্জ্য তৈরি করে। প্রতিদিন এই শহরে ৩৫০ টন শিল্প, খাদ্য, শাক-সবজি, ফল, পলিথিন কাগজ ও কাপড়ের বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের ২৯০ টন বর্জ্য সংগ্রহের সক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ ৮৩ শতাংশ বর্জ্য সিটি কর্পোরেশন সংগ্রহ করে। অবশিষ্ট বর্জ্য নদী, খাল, পুকুর ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম