সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : পরকীয়ার জের ধরেই রাজধানীর বাড্ডায় বাবা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পরিকল্পনা মধ্যরাতে কাঠের টুকরা নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন সাবলেট ভাড়াটিয়া শাহীন। পরে কাঠের ওই টুকরা দিয়েই ঘুমন্ত জামিলের মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন তিনি। পরে বাবাকে হত্যার দৃশ্য দেখে ফেলায় নয় বছরের শিশু নুসরাত জাহানকে খুন হতে হয়। আর বামা-মেয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল মা আর্জিনা।

শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে বাড্ডায় জামিল শেখ (৩৮) ও তার মেয়ে নুসরাত হত্যাকাণ্ড তদন্তে স্ত্রী আর্জিনা বেগম এবং তাদের ভাড়াটিয়া দম্পতিকে গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় পুলিশ।

এর আগে শুক্রবার জামিল শেখ ও তার মেয়ে নুসরাত (৯) হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে শিশুটির মা আরজিনা বেগমকে এবং তাদের ভাড়াটিয়া দম্পতি শাহীন-মাসুমাকে খুলনাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, গাড়িচালক জামিল ও তার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েটিকে হত্যা করে আর্জিনা এবং তাদের বাসায় সাবলেট থাকা শাহিন মল্লিক। আর্জিনা ও শাহীনের বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় তারা।

ডিএমপির গুলশান জোনের উপকমিশনার মোশতাক আহমেদ বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুমস্ত অবস্থায় একটি কাঠের টুকরা নিয়ে আঘাত করা হয় জামিলকে।

তখন জামিল তার দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে শুয়েছিলেন। অন্যদিকে তাকে হত্যা পরিকল্পনা সাজান আর্জিনা ও শাহিন।

মোশতাক বলেন, রুমটি অন্ধকার ছিল। কাঠের টুকরা দিয়ে ঘুমন্ত জামিলের মাথায় আঘাত করে শাহিন। তখন সে জেগে উঠলে আবার আঘাত করা হয়। আর কিছু বলতে পারেনি জামিল। তখন তার মৃত্যু ঘটে। নিহত নুসরাত জাহান নিহত নুসরাত জাহান বাবাকে আঘাতের শব্দে পাশে থাকা নুসরাত জেগে ওঠে বলে জানান মোশতাক। সে তখন বলতে থাকে, কী হয়েছে, আমার বাবাকে আঘাত করছ কেন? তখন তাকে রুমের বাইরে নিয়ে আসে আর্জিনা। জামিলকে মারার পরও নুসরাত বাবাকে মারার কারণ জানতে চাইলে তখন তাকেও হত্যা সিদ্ধান্ত তার মা ও তার ‘প্রেমিক’ শাহিন নেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

মোশতাক বলেন, প্রাথমিকভাবে আর্জিনা রাজি ছিল না। কিন্তু মেয়ের কথায় ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে নিজে বাঁচতে পরে সম্মতি দেয়। এরপর নুসরাতকে ওই কক্ষে পুনরায় ঢুকিয়ে তাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তিনি জানান।

মোশতাক বলেন, জামিলকে হত্যার সময় তার ঘুমন্ত ছোট ছেলেটি জেগে উঠলেও সে পুনরায় ঘুমিয়ে পড়ায় বেঁচে যায়। একই ঘরে অন্য একটি কক্ষে সাবলেট থাকা শাহিনের স্ত্রী মাসুমা বেগম তার স্বামী ও আর্জিনার এই পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে জানতেন না বলে মনে করছে পুলিশ।

মোশতাক বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর জেগে উঠে রক্ত দেখে ঘটনাটি জানেন মাসুমা। তখন স্বামীর কথামতো তার সঙ্গে তিনি পালিয়ে যান খুলনায়।

অন্যদিকে আর্জিনা ঘরে থেকে ঘটনাটি ডাকাতের হামলা বলে সাজানোর চেষ্টা করেছিলেন, যা পুলিশের তদন্তে ভেস্তে গেছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার হোসেনবাগ মার্কেটের পাশে ময়নারমোড় এলাকার একটি বাসার ছাদ থেকে জামিল শেখ ও তার শিশুকন্যা নুসরাতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জামিল শেখ গোপালগঞ্জ সদরের করপাড়া ইউনিয়নের বনপাড়া গ্রামের মৃত বেলায়েত শেখের ছেলে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম