সংবাদ শিরোনাম

 

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের ঝিনাই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ফসলি জমি ক্ষতি ও হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র কৃষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিক শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে নদীর দুইপাড় ধসে পড়লেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চার গ্রামের কৃষকরা। তবে জেলা প্রশাসক বলেছেন, কৃষি জমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, জামালপুর পৌরসভার সীমানা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া মৃত প্রায় ঝিনাই নদী থেকে ৩/৪ মাস ধরে চারটি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বালু উত্তোলন করায় নদীর দুইপাড় ধসে পড়ে ফসলসহ বেশকিছু জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে পৌর এলাকার রশিদপুর, মাইনপুর হাটচন্দ্রা ও মেলান্দহের মধ্যেরচর গ্রামের শতাধিক কৃষকের ফসলি জমি ও গাছের বাগান।

জামালপুর পৌর এলাকার হাটচন্দ্রা গ্রামের কৃষক ফয়েজুর রহমান, আবুল হোসেন, গোপাল শেখ, মাইনপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন আব্দুল ওয়াহাব, মেলান্দহ উপজেলার মধ্যেরচর গ্রামের রহম আলী বলেন, নদী মরে যাওয়ায় তারা জেগে উঠা জমিতে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষ করতেন। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র ৩/৪ মাস ধরে বড় বড় চারটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালূ উত্তোলন করায় নদীর দুই পাশে ২৫ থেকে ৩০ ফুট দুই পাড় ধসে ফসলসহ জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। তাদের বালু উত্তোলনে বাধা দেয়ায় নানাভাবে হয়রানি ও পুলিশে ধরিয়ে নেয়ার হুমকি দেয়। তারা বালু উত্তোলন বন্ধে কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী প্রভাবশালী চক্রের সদস্য জামালপুর পৌরসভার সাবেক কমিশনার শাহীনুর রহমান শাহীন বলেন, বালু উত্তোলন করছি না। বালু উত্তোলন করছে শেখ হাসিনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান।

নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ফসলি জমির ক্ষতির বিষয়ে কলেজ নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রাইভেট) লিমিটেডের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান শিকদারের কাছে বক্তব্য চাওয়া হলে তিনি কোনো কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. আহমেদ করিব বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত রয়েছেন, কৃষি জমি ও পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ বৈধ বালু মহাল ছাড়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম