সংবাদ শিরোনাম

 

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : ‘আপনার এসিল্যান্ড আছে আপনার পাশেই, আস্থা রাখুন আপনার এসিল্যান্ডে’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে যোগদানের পর থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আজগর হোসেন সোহেল। অক্টোবরে প্রথম সপ্তাহে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে মির্জাপুরে যোগদানের পর থেকে তার উপর অর্পিত নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নানাবিধ সামাজিক সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছেন তিনি।

তিনি মনে করেন, পারিবারিক কলহ থেকেই সমাজে নানাবিধ অপরাধের উৎপত্তি হয়। সেজন্য নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পারিবারিক কলহকে গুরুত্ব দিয়ে তা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করে থাকেন।

উপজেলার পাকুল্লা এলাকার বাসিন্দা মধ্যবয়সী নারী মুক্তি। কয়েক বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল হৃদয় নামে এক যুবকের সাথে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পারিবারিক কলহে জড়িয়ে মুক্তির সংসার ভাঙতে বসে। এরই মধ্যে মুক্তির কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে এক শিশু।

ভুল বোঝাবুঝি আর পারস্পরিক অসংলগ্ন আচরণ তাদের নিয়ে গিয়েছিল বিচ্ছেদের দ্বারপ্রান্তে। মুক্তি নামে মেয়েটি সত্যিই মুক্তি খুঁজছিল তার পারিবাহিক কলহের বেড়াজাল থেকে। এ সময়ে তিনি তার এক প্রতিবেশীর পরামর্শে কলহ নিরসনে শরণাপন্ন হন এসিল্যান্ড আজগর হোসেনের কাছে। এসিল্যান্ডই হয়ে উঠে তার আস্থার প্রতীক।

এরপর এসিল্যান্ড আজগর হোসেন তার পারিবারিক সমস্যার কথা শুনে বিরোধ মীমাংসার জন্য স্বামী-স্ত্রী দুইজনকেই একত্রে ডেকে বসান। পরবর্তীতে তাদের স্বামী-স্ত্রী দুইজন ও তাদের পরিবারের সাথে দীর্ঘ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়। উভয়পক্ষ সংসার করার জন্য ঐক্যমতে পৌঁছান।

শুরু হয় নবযাত্রা, অভিমানের কাচ ভেঙে তাদের মলিন জীবনে আবার ঝরছে আনন্দের ফুলঝুরি। লজ্জামাখা হাসিতে রঙিন হচ্ছে তাদের পুরনো ভালোবাসা।

ভাঙা সংসার জোড়া লাগার সুন্দর এই মুহূর্তকে স্মরণে রাখতে মঙ্গলবার দুপুরে বর-কনে ও তাদের অভিভাবকদের সম্মানে উপজেলার নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন তার কার্যালয়ে আয়োজন করেন মধ্যাহ্নভোজের।

এ সময় মুক্তি ও হৃদয় তাদের সংসার ফিরে পেয়ে এসিল্যান্ড আজগার হোসেন ও ইউএনও ইসরাত সাদমীনের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দোয়া প্রার্থনা করেন।

এসিল্যান্ড আজগর হোসেন ও ইউএনও ইসরাত সাদমীনের সহযোগিতায় মুক্তির আজ মুক্তি মিলেছে, আর হৃদয় পেয়েছে মুক্তি। হৃদয়-মুক্তির নবযাত্রায় অশেষ শুভকামনা করেন তারা। এসিল্যান্ড ও ইউএনও মধ্যাহ্নভোজের এই আয়োজন যেনো তাদের নবযাত্রার রোমাঞ্চকর সাক্ষী হয়ে রইল।

এসিল্যান্ড আজগর হোসেন বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে সমাজে নানা অপরাধ হয়। আর সেকারণে পারিবারিক কহল মীমাংসার দিকে জনপ্রতিনিধিসহ সমাজের সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা জোরদার করতে হবে।

ইউএনও ইসরাত সাদমীন বলেন, মুক্তি ও হৃদয়ের ভুল বোঝাবুঝির কারণে তাদের ছোট্ট শিশুটির ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে বসেছিল। ভুল বোঝাবুঝির অবসান হওয়ায় শিশুটিও অনিশ্চয়তার হাত থেকে রক্ষা পেল।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম