সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বেআইনি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির প্রধান এ কে এম শহীদুল হক। তিনি বলেছেন, কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকার পরও জনগণের আস্থা এই বাহিনীর ওপরেই।

বুধবার রাজধানীর লালবাগ থানা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক। এই থানার জন্য ৫০ শতক জায়গা দিয়েছে স্থানীয়রা।

পুলিশ প্রধান এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সাভারের আশুলিয়ায় এক ব্যক্তিকে আটক করে মুক্তিপণ আদায়ের সময় শিল্প পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শকসহ পাঁচজনকে আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ নেহায়েত কম না। গত ২৫ অক্টোবর কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার এক ব্যবসায়ীকে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে আদায় করা ১৭ লাখ টাকাসহ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ছয় সদস্যকে আটক করে সেনাবাহিনীর একটি দল। এ ছাড়াও বাহিনীটির সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ আাসে গণমাধ্যমে।

আইজিপি বলেন, ‘আমাদের দেশে পুলিশের বিরুদ্ধে অনেকেরই অভিযোগ থাকে। তবে আমি বলতে চাই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।’

পুলিশের সঙ্গে দালালদের সম্পৃক্ততার কথাও জানান স্বয়ং আইনজীবী। তিনি বলেন, ‘সমাজে কিছু মানুষ রয়েছে যারা পুলিশের দালাল হিসেবে কাজ করে মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা করে। তারা টাউট বাটপার রয়েছে। সমাজে আইন প্রয়োগ যে জনগণর স্বার্থে আসে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

‘জনগণ যে পুলিশের সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট হয় সেটাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে’- এমন মন্তব্য করে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশ যাতে সঠিকভাবে কাজ করে সে জন্য তাদের ভুলটা ধরিয়ে দিতে হবে, তাদের সাজেশন দিতে হবে যে আমরা এই ধরনের পুলিশিং চাই।’

এসব অভিযোগের পরেও পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট আছে দাবি করে শহীদুল হক বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ থাক না কেন, তারপরেও জনগণ পুলিশের কাছেই আসে।’

কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে পুলিশ বাহিনীর অবদান খাটো করা যাবে না বলেও মনে করেন আইপিজি। বলেন, ‘রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে আমাদের ১৬ জন পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে। তিনশর মতো পুলিশ পঙ্গু হয়েছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধেও আমরা সফল হয়েছি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘জনগণ আমাদের বন্ধু, আমরা জনগণের সেবক। এটাই আমাদের পরিচয়। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের সেবা দেয়াই আমাদের মূল্য লক্ষ্য।’

ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম