সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগের পত্র এখনও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে পৌঁছেনি বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আর রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র না পৌঁছা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিখদের ধর্মীয় উপাসনালয় গুরুদুয়ারা নানকশাহে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান সড়কমন্ত্রী।

কাদের বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র পাঠানোর বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো অবগত নই। তাছাড়া আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখবে।… আমি যতটুক জেনেছি এখনো রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগপত্র পৌঁছায়নি।’

এক মাসের ছুটিতে গত ১৩ অক্টোবর দেশের বাইরে যান সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তার ছুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ১০ নভেম্বর। কিন্তু তিনি দেশে ফেরেননি।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে সরকারি দলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সিনহা। এই অবস্থায় গত ২ অক্টোবর তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটি চান। পরে সেই ছুটির মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ান হয়।

তবে বিদেশ যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের দেয়া এক বিবৃতিতে সিনহা দাবি করেন তিনি অসুস্থ নন। দুই চিঠিতে দুই ধরনের বক্তব্য নিয়ে তখন বেশ তোলপাড় হয়।

আবার বিদেশ যাওয়ার আগে সিনহা সাংবাদিকদের বলে যান, ‘আমি পালিয়ে যাচ্ছি না, আমি আবার ফিরে আসবো। ’তবে তিনি ফিরলেন না এবং কবে ফিরবেন যে বিষয়ে কোনো তথ্যও কেউ দিতে পারছে না। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানাচ্ছে, তিনি এখন কানাডায় রয়েছেন। সেখানে তার মেয়ে থাকেন।

সিনহা দেশের বাইরে যাওয়ার পরদিন সুপ্রিম কোর্ট থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, আর্থিক অনিয়ম, নৈতিক স্খলনের ১১টি অভিযোগ উঠার কথা জানানো হয়। এসব অভিযোগ নিয়ে আপিল বিভাগের পাঁচ জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সিনহার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানান হয় ওই বিবৃতিতে। কিন্তু সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে না পারায় ওই পাঁচ বিচারক সিনহাকে জানান, তার সঙ্গে এজলাসে বসে বিচার করবেন না তারা।

এদিকে এসব অভিযোগ উঠার কারণে দেশে ফিরলেও সিনহা পদে বসতে পারবেন না বলে আগেই জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এর মধ্যে দেশের বাইরে থেকেই সিনহা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রচার হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র আসার আগে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না তিনি (প্রধান বিচারপতি) পদত্যাগ করেছেন কি না। পদত্যাগপত্র পাঠাতে হলে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে।’

প্রধান বিচারপতি হিসেবে সিনহার মেয়াদ রয়েছে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। তিনি ছুটিতে যাওয়ার পর আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশে বিশৃঙ্খলা হলে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান কাদের। তিনি বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হবে কিনা নির্ভর করবে বিএনপির আচরণের উপর। বিএনপি যদি বিশৃঙ্খলা করে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় যা যা করণীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাই করবে।’

বাংলাদেশে বসবাসকারী শিখ ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তায় সরকার সব সময় পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন কাদের। তিনি বলেন, ‘আমি আশ্বাস দিচ্ছি বাংলাদেশে গুরু নানক শাহ এর ভক্ত যারা বাংলাদেশে বসবাস করছে, বাংলাদেশ সরকার তাদের পাশে থাকবে এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।’

‘নানক শাহ ৫০০ বছর আগে আসাম সিলেট হয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। আর ওনার মতবাদ ধারণ করে আজকের এই গুরুদুয়ারা নানক শাহী। তার কথায় শান্তির বাণী ছিল।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম