সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে : জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বিএন‌পির ডাকা সমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সমাবেশে এসে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

রোববার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে খালেদা জিয়া সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছান। সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি। এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় সমাবেশ। এরপর প্রথম বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান।

সমাবেশে অংশ নিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হচ্ছেন। এখনো থেমে নেই নেতা-কর্মীদের ঢল।

সমা‌বেশ দেড়টায় শুরু হলেও আগেভা‌গেই বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সমাবেশ স্থলে আসা শুরু করেন। তবে অনেক নেতা-কর্মী অভিযোগ করছেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এজন্য সমাবেশে অংশ নিতে ইচ্ছুক অনেক নেতা-কর্মী ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে পায়ে হেঁটে সমাবেশ স্থলে আসতে রওনা হয়েছেন।

মোহাম্মদপুর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাকিবুল হোসাইন রাইজিংবিডিকে জানিয়েছেন, সকাল ১০টা থেকে তার এলাকার বাসস্ট্যান্ড থেকে গণপরিবহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ১২টার দিকে প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি আমার কর্মীদের নিয়ে সমাবেশে যাব। এখন গাড়ি পাচ্ছি না। তাই পায়ে হেঁটে রওনা দিচ্ছি।

বেলা সাড়ে ১১টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চের আশপাশে নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে জড়ো হচ্ছেন। অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত হয়েছেন। মঞ্চে নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতে গান পরিবেশন করছে জাসাস।

দুপুর ১২টায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাবেশ স্থলে এসেছেন। তিনি আজকের সমাবেশের সভাপতিত্ব করবেন।

কার্যত ঘরোয়া রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকা বিএনপি মাঠের কর্মসূচিতে অনেক দিন ধরেই নেই। তাই দীর্ঘ বিরতির পর জনসভার মতো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির নেতা-কর্মীদের কাছে তৈরি হয়েছে অন‌্য ধরনের উন্মাদনা, বাড়তি কৌতুহল। এটিকেই কাজে লাগিয়ে ঢাকায় ‘অভূতপূর্ব’ এক সামবেশ আয়োজনের টার্গেট দলটির, যেখানে অন্তত পাঁচ লক্ষাধিক লোক সমাগমের কথা ভাবছেন দায়িত্বশীল নেতারা।

এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ৫ জানুয়ারিতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে রাজনৈতিক সমাবেশ করেছিল বিএনপি। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তিতে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে ওই সমাবেশটি করে বিএনপি। প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিবর্তে তখন বাধ্য হয়ে নয়াপল্টনে সমাবেশ করে তারা।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ধরনের সমাবেশের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন নেতারা। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের যতগুলো প্রস্তুতি সভা বা যৌথ সভা হয়েছে তাতে এই বিষয়ের ওপরই জোর দিয়েছেন দায়িত্বশীলরা। নির্বাচনের প্রায় বছরখানেক আগে হওয়া এই সমাবেশকে ঘিরে বিএনপির পরিকল্পনায়ও রয়েছে ভিন্নতা। সমাবেশের আদলে এই কর্মসূচির মাধ‌্যমে দলটি ব‌্যাপক সংখ‌‌্যক মানুষ জড়ো করে এটাই দেখাতে চাইছে যে, নিকট অতীতে এই ধরনের জনসভা কখনো হয়নি। নির্বাচনকালীন সরকার ব‌্যবস্থা নিয়ে সরকারের সঙ্গে একটি বোঝাপড়ায় আসার আগে ক্ষমতাসীনদের এক ধরনের বার্তা দিয়ে রাখতে চাইছে বিএনপি।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম